দুঃসহ জীবন আত্বসমালোচনা ->কমপ্লেক্সিটি
Mar 28

আজ বাসায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজ আর বাসায় যাওয়া হল না।
আমার কাজ শেষ হতে সন্ধ্যা লেগে গিয়েছিল। সন্ধ্যায় যখন বাসার উদ্দেশ্যে বের হলাম তখন আকাশের অবস্থা ভাল ছিল না। তবুও বাসায় যাওয়ার জন্য বাস স্ট্যান্ডে উপস্থিত হলাম। কিন্তু এক ঘন্টা অপেক্ষা করেও কোন বাসে উঠতে পারলাম না। এর মাঝে বাবা ফোন করে বললেন ওখানকার অবস্থা ভাল না। খুব ঝড় হচ্ছে। আমাকে ঝড়ের মধ্যে বাসায় যেতে নিষেধ করে দিলেন। কি আর করা অনিচ্ছা সত্তেও ফিরে আসতে হল। মনটা একটু খারাপ ছিল তাই ভাবলাম হাঁটতে হাঁটতে মেসে ফিরবো। হাঁটা শুরু করলাম আসাদ গেট থেকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের দিকে। ততক্ষনে জোরে বাতাস বইতে শুরু করে দিয়েছে। তবুও রিক্সা না নিয়ে হাঁটতে থাকলাম। ২৭ নম্বরের পেছনের রাস্তায় যখন আমি তখন হঠাৎ করেই খুব জোরে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। ইচ্ছা করেই ভিজতে ভিজতে হাঁটতে লাগলাম। আশে পাশের মানুষগুলো নিজেদের বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে ছুটতে লাগলো। শুধু আমি একা হেটে যাচ্ছি রাস্তা দিয়ে। প্রচন্ড বাতাসে নারিকেল গাছের ডাল রাস্তায় ভেঙ্গে পড়ে আছে। রাস্তায় পড়ে থাকা ডালগুলো পরিস্কার করতে করতে এগোতে থাকলাম। একটু এগিয়ে এসে দেখি এক ভ্যান চালক ভ্যানের মাল বাঁচাতে তাবু দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাতাসের প্রচন্ডতা এতটাই ছিল যে তাবু তো দূরের কথা তার পরনের লুঙ্গিটাও ঠিক করে রাখতে পারছিলেন না। আমি তাকে সাহায্য করলাম তাবু ঠিক করতে।
নিজেকে কেমন জানি হিমু হিমু লাগছিল। কিন্তু বেশি সময় এই ভাবটা ধরে রাখতে পারলাম না। যখন শিলাবৃষ্টি শুরু হল তখন মাথার উপর এমন বড় শিল পড়তে থাকলো যে শুধু হাত দিয়ে তা থেকে বাঁচা সম্ভব হলো না। অবশেষে দিলাম দৌড়। একটি দোকানের সামনে গিয়ে দাড়ালাম। শিল পড়া বন্ধ হলে আবার বেরিয়ে পড়লাম। জলদি বাসায় পৌছানোর জন্য শর্টকাট রাস্তা ধরে হাঁটতে লাগলাম। কিন্তু কিছুদুর গিয়ে দেখি রাস্তার ম্যানহোল উপচিয়ে ময়লা বের হয়ে রাস্তায় ভরে গেছে। আবার ফিরে এসে সোজা রাস্ত ধরে চলতে লাগলাম। যখন এলাকা দিয়ে যাচ্ছি দোকানের লোকগুলো আমাকে এমনভাবে দেখছিল নিজেকে খুব বোকা বোকা লাগছিল। কারণ কোন লোক তখন রাস্তায় নেই। হঠাৎ বৃষ্টিতে কারো সঙ্গে ছাতা নেই তাই হয়তো রাস্তায় কেউ নেই।
এলাকায় যখন গলির মধ্য দিয়ে পানি ভর্তি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি তখন আল্লাহর কাছে শুধু এই প্রার্থনাই করছি যে, আল্লাহ আমাকে যে কোন ধরনের বিপদে ফেলো আমার কোন অভিযোগ থাকবে না কিন্তু আমাকে তুমি ম্যানহোলের মধ্যে ফেল না। খুব সাবধানে হাঁটতে লাগলাম আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম এর পর থেকে রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় ম্যানহোলের অবস্থান ভাল করে দেখে রাখবো।
বাসায় এসে দেখি বিদ্যুৎ নেই। কোন রকমে কাপড় বদলিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লাম। মশার কামড় উপেক্ষা করে রাত ১২টা পর্যন্ত দিলাম ঘুম। ঘুম উঠে দেখি প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করছে। মাথা ব্যাথা তো করবেই। যে বড় বড় শিল পড়ছে মাথার উপর! মনে হচ্ছে জ্বরটাও আসবে।
কিছু ভাল লাগছে না। তাই ভাবলাম আজকে আমার ব্যাতিক্রমভাবে কাটানো একটি দিনের কিছু সময়ের কথা সবার সাথে শেয়ার করি।

Blogged with the Flock Browser

Tags:

 


3 Responses to “বৃষ্টি”

  1. masudNo Gravatar Says:

    Hello bhai,

    bhalo e to lekhen. apnar lekha ta pore khub bhlao laglo
    batikrom dhomi lekha…

    dhonnobad

    masud

  2. MizanNo Gravatar Says:

    onek din por apnar web site a aslam, oneck change korsen, bhalo lagsay. akta kotha, apnara jara desh a asen, tara kintu bhalo korsen, hoyto somoy ditay paren tai, ata siken ota siken, cute sob web site development korsen, bhalo ata.

    amra jara desh er bahiray asi, mon oneek kissu e kortay chay, kintu kora hoaya uthay nah, odd job koray, uni fees ditay ditay akdom nissu, fotur obostha!

    tai mon chailay o php, ajax ba jumla (sure spelling ta wrong) ar sikha hoay uthay nah. keno jay ojotha boksi.

    any ways, apnar site a oneek bhalo likha porlam, somoy ta bhalo katlo, thanks

  3. LipnaNo Gravatar Says:

    Apnar lekha pore khubi valo legeche. Apni jeishob application/website develop korchen dekhe khubi impressed holam. Apnader moto kaajer manush deshe joto hobe toto amader shouvaggo barbe.

    Really appreciate what you do and great blog. keep it up!!

Leave a Reply